শূণ্য হাতে প্রবাস থেকে দেশে ফেরার যন্ত্রণা!

প্রবাস জীবন মানে হলো দুঃস্বপ্ন। প্রবাস জীবন মানে ভয়ঙ্কর বাস্তবতা। এ হলো আমাদের অভিশপ্ত জীবন। দেশে অর্থকষ্টে থাকলেও আপনজনদের সান্নিধ্য পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন উপলব্ধি হয় জীবনে টাকার অভাবের কষ্টের চেয়েও আরও বেশি ভয়াবহ কষ্ট আপনজনকে ছেড়ে একাকী প্রবাসে থাকা।

প্রবাসের এ কষ্ট জানার পরও অনেকেই বিদেশে যাবার জন্য উঠেপড়ে লাগে। অনেকে মনে করে প্রবাস মানেই জীবনের একটা গতি হওয়া। বেকার থাকার যন্ত্রণার চেয়ে প্রবাসে দিন মজুরির কাজ করাও স্বস্তি। আর প্রবাসের যাওয়ার আগ্রহের কারণ, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। কিন্তু এখানে বেশীরভাগ লোক দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে।

আমাদের অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে জনসংখ্যাটা সমস্যা একটি। জনসংখ্যার আধিক্যতার কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার লোক বেকার হচ্ছে। আর শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে লাগামহীনভাবে।

তাই কর্মক্ষম বেকার ও শিক্ষিত বেকারের একটা বড় অংশ হতাশ হয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। প্রবাসে এসে অনেকেই সফল হয়। নিজ পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়। আবার অনেকেই যে স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে আসে তা পূরণে ব্যর্থ হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরে যায়।

নিম্ন আয়ের মানুষগুলো ঘর-বাড়ি বিক্রি কিংবা বেসরকারি সংস্থা থেকে কড়া সুদে অর্থ নিয়ে প্রবাসে এসে অনেক সময় সুবিধা পায় না। তাই তারা ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে এক বুক কষ্ট ও হতাশা নিয়েই শূন্য হাতে দেশে ফেরে। আমরা তো জানি প্রবাসে কতটা কষ্ট, কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

প্রবাসীদের এ ভোগান্তির কারণ দালালদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। দালালরা সাধারণ মানুষদের প্রবাসে নেওয়ার আগে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে যা প্রবাসে গেলে তাদের কথার সাথে কাজের মিল পাওয়া যায় না। প্রবাসে যাওয়ার পর প্রবাসীরা সব টের পেলেও জায়গা-জমি বিক্রি এমন কী ঋণের বোঝার কারণে দেশে ফিরে যেতে পারে না।
যেহেতু আমাদের দেশের লোকদের প্রবাসে যাওয়া ছাড়া গতি নেই সেহেতু সরকারের উচিত এই ব্যাপারে সঠিক নির্দেশনা দেওয়া। যারা দালালি করে মানুষকে ঠকায় তাদের বিরুদ্ধে কঠিন আইন করা উচিত। তাহলে নিরীহ অসহায় মানুষগুলো প্রবাসে গিয়ে হয়রানির শিকার হবে না।

তারাও দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারবে। আর যারা প্রবাসে যাবে তাদেরও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকাটা জরুরি। কারো মিষ্টি কথায় প্রবাসে গিয়ে কষ্ট করার চেয়ে দেখেশুনে ভালো কোম্পানিতে যাওয়াই শ্রেয়।

লেখকঃ মো. আলমগীর হোসেন
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) উপজেলা প্রবাসী কল্যাণ ফোরাম।
[email protected]