কাটছে ডেঙ্গুর বিপদ, কমছে ভয়-শঙ্কা

ডেঙ্গুর বিপদ ধীরে ধীরে কাটছে শুরু করেছে। একই সঙ্গে কমছে জনমনে ভয় আর শঙ্কা। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অর্ধ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ভয়াবহতা চরম আকার ধারণ করেছিল। সরকারি হিসেবেই প্রতিদিন গড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই হাজারের ওপরে গিয়ে দাঁড়ায়। দেশের বাইরের গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর এ পরিস্থিতিকে মহামারি হিসেবে বর্ণনা করতে থাকেন।

অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বিশেষজ্ঞরা সেপ্টেম্বরকেও বিপজ্জনক মাস হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। অল্প অল্প বৃষ্টি আর তীব্র রোদের কারণে এডিস মশার লার্ভা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন তারা। তব সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তায় আগস্টের চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্বস্তি দেখা দেয়। যদিও তখন রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে আক্রান্তের বেড়ে নতুন উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করে।

আগের বছরগুলোর পরিসংখ্যান যাচাই করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেপ্টেম্বর মাসেই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ তথা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যেতো। তবে চলতি বছরে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। আগস্টেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে। আর সেপ্টেম্বর মাসে এসে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে দেখা যায়। যদিও ব্যতিক্রমী ঘটনা হচ্ছে, অগাস্টের শেষ দিকে এসে রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তায় আক্রান্তের সংখ্যা আরো কমে এসেছে। আগামী অক্টোবর মাসে এ সংখ্যা আরো কমে যাবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মশা বিশেষজ্ঞ কবিরুল বাশারের মন্তব্য, চলতি বছরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আগাম দেখা দেয়। এ কারণে আক্রান্তের সংখ্যা আগস্টেই ছিল বেশি। পাশাপাশি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করাসহ প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা বেড়ে যাওয়ার কারণে সেপ্টেম্বরে প্রকোপ কমে গেছে। যদি তা সংখ্যাটা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি ছিল।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাও মনে করছেন, দেশে নতুন করে ডেঙ্গুর বিস্তার কমে গিয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল। বলা যায় বিপদ কেটে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩৬০ জন। এরমধ্যে ঢাকায় আক্রান্ত ১০২ জন এবং ঢাকার বাইরে ২৫৮ জন। এখনও ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তবে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে।

তথ্যমতে, গত ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭ হাজার ২৬৩ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি গেছেন ৮৫ হাজার ৩২৩ জন। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৭০৯ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৬২৯ জন এবং অন্যান্য বিভাগে এক হাজার ৮০ জন ভর্তি।