সনাক টিআইবি’র উদ্যোগে মানববন্ধন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) মুক্তাগাছার উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এজন্য দায়ী শিল্পোন্নত দেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবীতে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে সনাক-স্বজন-ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডসসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্তিত হয়ে সনাক-টিআইবির দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

এ সময় স্বজন সদস্য এ.বি.এম. জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এই পৃথিবী তথা মানব সভ্যতার অস্তিত্বের সংকট হিসাবে দেখা দিলেও তা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবসা গ্রহণ করতে সার্বিকভাবে বিশ্ব নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনকে স্বাভাবিক ভাবে ধরে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলো তেল, কয়লা এবং গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি ব্যবসার অনুকূল নীতি অব্যাহত রেখেছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে পৃথিবীকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলছে।

আরও পড়ুন :
নিরাপদ সড়ক চাই এর কমিটি গঠন
বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

ফলে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষর হলেও তা বাস্তবায়নসহ চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশর মতো সমুদ্র উপকূলীয় দেশসমূহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সনাক সদস্য মলিনা রানী দত্ত তার বক্তব্যে টিআইবির দাবী সমূহ তুলে ধরে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সীমিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে, উন্নয়ন সহায়তার অতিরিক্ত ‘নতুন’ এবং ‘অতিরিক্ত’ জলবায়ু তহবিল গঠন করতে হবে, শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রস্তাবিত ১০০ বিলিয়ন ডলার রূপরেখায় অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত জলবায়ু তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিতের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক অর্থ-লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের চাপ বা কৌশল উপেক্ষা করে বাংলাদেশের ন্যায্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে অনুদান সংগ্রহে সরকারকে আরো সক্রিয় হতে হবে।

মানববন্ধনের সমাপনী বক্তব্যে সনাক সহ-সভাপতি মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন, প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা কাঠামো সম্বলিত চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন ও প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং জলবায়ু-তাড়িত বাস চ্যূতদের পুনর্বাসন, কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতে সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) এবং অভিযোজন তহবিল থেকে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে তিনি মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সকলের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯ at ১৭:৩১:২৯ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/এমএইচএস/আজা