বিশ্বনেতাদের হুমকি দিল ১৬ বছরের গ্রেটা থানবার্গ

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের জলবায়ু অ্যাকশন সামিট চলাকালীন ২৩ সেপ্টেম্বর বক্তব্য রাখেন ১৬ বছর বয়সী গ্রেটা থানবার্গ। সে বলে, আমরা একটি গণবিলুপ্তির পথে আছি এবং আপনারা যা কিছু বলছেন তা চিরন্তন অর্থনৈতিক বৃদ্ধির রূপকথার গল্প মাত্র। এত দুঃসাহস কেন আপনাদের? সে দর্শকদের কাছে হতাশ হয়ে পড়েন এবং রেগে গিয়ে কেঁদে ফেলে।

থানবার্গ সমাবেশে বলে, আপনারা আমার স্বপ্ন এবং শৈশবকে আপনাদের খালি কথা দিয়ে চুরি করেছেন, তবুও এখনো আমি ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে। নেতাদের কাছে থানবার্গের বার্তা স্পষ্ট ছিল। অতীতের মতো বহুবারের মতো সে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কাজ না করার অভিযোগ করে। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বিজ্ঞানটি স্পষ্ট তবুও আপনারা কীভাবে তা এড়িয়ে যাচ্ছেন?

থানবার্গ সম্মেলন এবং সভাগুলোতে অংশ নিতে স্কুলের অধ্যাপকদের কাছ থেকে ভ্রমণ ও বিদ্যার্জন এর উদ্দেশ্যে বিশেষ ছুটি নিয়েছেন। তিনি নীতি নির্ধারক এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলছেন।

তবে সে সহজেই আমেরিকা যেতে রাজি ছিল না। বিমানের ভ্রমণ থেকে উচ্চমাত্রায় কার্বন নির্গমন হওয়ার কারণে সে উড়তে অস্বীকার করে। তাকে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যে সম্বোধন করতে আসার জন্য আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ৬০ ফুট শূন্য কার্বন নির্গমন নৌকায় যাত্রা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

আরো পড়ুন:
পুরাতন ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের বিনিময়ে এবার নিন নতুন ল্যাপটপ
অব্যাহতির ঘন্টা বাজলো রাবির সেই হল প্রাধ্যক্ষের

বিশ্বব্যাপী নেতাদের জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব সহকারে নিতে রাজি করানোর কারণে এই সুইডিশ স্কুলছাত্রী খ্যাতি অর্জন করেছে। সে তার হাতে বানানো “স্কুল জলবায়ু ধর্মঘট” চিহ্ন নিয়ে সুইডিশ পার্লামেন্টের বাইরে সাপ্তাহিক ভাবে আলোচনা শুরু করেছিল। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে, তার একার এই প্রতিবাদটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল, যা কিনা প্রায় ১০০টিরও বেশি দেশের স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বেড়েই চলেছে।

জানুয়ারিতে সে যখন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যায়, তখন সে সেখানে ট্রেনে যায় এবং তাতে তার ৩২ ঘণ্টা সময় লাগে। সে সুইস মাউন্টেন রিসর্টে উপস্থিত ধনী ও ক্ষমতাবানদের বলে “বড়রা বলছেন যে তারা তরুণদের কাছে অনেক আশাবাদী, তবে আমি আপনাদের আশা দিতে চাই না। আমি আপনাদের আতঙ্কিত করতে চাই” সোমবার নিউইয়র্কে স্তম্ভিত নীরবতার সাথে সবাই তাঁর বক্তব্য শোনেন এবং অপ্রতিরোধ্য প্রশংসা করেন।

পৃথকভাবে সোমবার, থানবার্গ এবং আরও ১৫ জন শিশু জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ দায়ের করে যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি অর্থনীতি অব্যাহত জলবায়ু সংকট বন্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। আবেদনে পাঁচটি দেশের নাম দেয়া হয়েছে – জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং তুরস্ক। তারা বলে শিশুদের অধিকার সম্পর্কিত কনভেনশন এর অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা যা কিনা ৩০ বছরের পুরানো মানবাধিকার চুক্তি যা সর্বাধিক ইতিহাসে বিস্তৃতভাবে অনুমোদিত তা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

থানবার্গ বলে, নিউ ইয়র্কে জড়ো হওয়া বৈশ্বিক নেতাদের কাছে তার বার্তাটি সহজ, আমরা আপনাদের দেখছি। আপনারা যদি আমাদের কাছে ব্যর্থ হতে বেছে নেন তবে আমরা আপনাদের কখনই ক্ষমা করব না।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯ at ০০:২৪:২৯ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/ভোকা/এএএম