বাঘারপাড়ায় ১০টাকা দরের ১৫০ বস্তা চাল উদ্ধার

যশোরের বাঘারপাড়া বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের আলাদীপুর বাজারে আমিনুর সদ্দারের ঘর থেকে বর্তমান সরকারের খাদ্যবন্ধব ১০ টাকা কেজি দরের ১৫০ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আফরোজ। সোমবার দুপুর ২টার দিকে বাঘাপাড়া বাসুয়াড়ী আলাদীপুর বাজারে দুস্তদের মাঝে চাল বিতারনের পর এ বিপুল পরিমানের চাল জব্দ করেন এ কর্মকর্তা।

বিশেষ একটি সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাহির দপ্তর থেকে ৫শ’ টি কার্ডে ডিলার আমিনুর সদ্দারের মাধ্যমে ১৫ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি বস্তার ওজন ৩০ কেজি। প্রতি কেজি চালের মূল্য ১০টাকা করে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এসব চাল স্থানীয় দুস্তদের মাঝে বিতারণ করা হয়। প্রতিটি কার্ডে চালের বরাদ্দের পরিমান ৩০ কেজি থাকলেও কয়েকটি দুস্ত পরিবারের চাল মেপে ২৬ ও ২৭ কেজি করে পাওয়া যায়। এ খবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আফরোজ জানার সাথে সাথে বাসুয়াড়ী আলাদীপুর বাজারে যান। কয়েকজন দূস্ত কার্ড ধারীদের চাল মেপে ২৬ কেজি থেকে ২৭ কেজি ২৮ কেজি ও ২৯ কেজি করে চাল পান। এসময়ে পাশের একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে তিনি ১৫০ বস্তা চাল জব্দ করেন। এ সময়ে বাসুয়াড়ী ওয়ার্ডের মেম্বার জাহিদ সদ্দার স্থানীয় রাজনৈতিক লোকজন নিয়ে হাজির হন এবং ডিলার আমিনুর সদ্দারের পক্ষে ছাপাই গাইতে থাকেন এবং বলেন ফুড গোডাউন থেকে তাদেরকে চাল কম দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য এ ওয়ার্ডের প্রকৃত দূস্তদের ১০ টাকা দরের কার্ডও ভিজিএফ এর চালের কার্ড না দিয়ে এলাকার ধনীদের ও দলীয় সমার্থকদের চালের কার্ড দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে।

বাঘারপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আফরোজ জানায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে সোমবার দুপুরে আমি নিজেই আলাদীপুর বাজারে যায়। সেখানে গিয়ে কয়েকজন সুবিধা ভোগী দূস্তদের বস্তার চাল ওজন করে কোনটায় ২৬ কেজি, কোনটায় ২৭ কেজি আবার কোনটায় ২৮ কেজি করে চাল পায়। বস্তুগুলো প্রকৃত চাল থাকার কথা ৩০ কেজি করে। বিষয়টি নিয়ে ডিলার মালিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বস্তার ছিদ্র দিয়ে চাল পড়ে গেছে। এতে আমার সন্দেহ হলে আমি পাশের ঘরগুলোতে চাল খুজতে থাকি। একটি ঘর থেকে প্রায় ১৫০ বস্তা চালা জব্দ করি এবং উপজেলা ফুড কর্মকর্তাদের জিম্মায় দিয়ে দিই। এসময়ে স্থানীয় জাহিদ মেম্বর দলীয় লোকজন নিয়ে জড়ো হয় এবং ডিলার আমিনুর সদ্দারের পক্ষে ছাপাই গাইতে থাকেন । তবে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদান্ত চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।