প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় প্রেমিকার আত্নহত্যা

জামজামির মাঠ পাঁচলিয়া গ্রামে ৮ম শ্রেনীতে পড়ুয়া নাবালিকা কল্পনার (১৪) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে । ভোর হতেই পরিবার দাবি করতে থাকে সে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে ঘরের আড়াই ঝুঁলে আত্মহত্যা করেছে ।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এ্যাডিশনাল এসপি (সদর সার্কেল) মোঃ কলিমুল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স । পুলিশ কর্মকর্তা, নাবালিকার মৃত্যুর নৈপথ্য উদ্ধারে স্বজনদের অভিমত শুনেন।

স্বজনরা এ আত্মহত্যার নৈপথ্যে স্কুল ছাত্রী কল্পনার উপসর্গ কূদৃষ্টি ও মস্তিষ্ক সমস্যা বলে সেই মান্ধাত্মা আমলের দাবি দাওয়া আমলেই নেননি পুলিশ কর্মকর্তা।

মৃতের বই খাতার পাতায় লেখা হৃদয় ছোয়া গান ও মোবাইল নং এ মৃত্যু রহস্যের দ্বার খুলে দেয় । প্রেম ঘটিত এ মৃত্যুর নৈপথ্য উদ্ধারে লাশের ময়না করাতেই মরদেহ পাঠানো হয় চুয়াডাঙ্গা সরকারি হাসপাতাল মর্গে ।

জানা গেছে আলমডাঙ্গা জামজামির মাঠ পাঁচলিয়া গ্রামের দরিদ্র কলম আলির মেযে কল্পনা খাতুন (১৪) সে পাঁচলিয়া জামাল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী।

পরিবার দাবি জানান, সরকারি ত্রান মন্ত্রনালয়ের দেয়া ঘরে কল্পনা পড়তো ঘুমাতো। বাবা কলম – মা রোজিনা বেগম দু ছেলে নিয়ে ঘুমাতো বারান্দায। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পড়াশুনা শেষে রাতের খাবার খেয়ে যার যার স্থানে শয়ানে যান তারা।

ভোররাতে প্রকৃতির ডাকে সাঁড়া দিতে বাইরে বের হয়ে মেয়ে কল্পনা পূনরায় ঘরে গিয়ে ঘুমায়। একটা ঝনঝন টিনের শব্দে কলম আলীর ঘুম ভেঙ্গে যায। শব্দের উৎস খুজতে দরজা ঠেলে ভিতরে গিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত অবস্থায় ঝুলতে দেখে তিনি চিৎকার করে স্ত্রী স্বজনদের ডেকে তোলেন।

আড়াই ঝুলন্ত ওড়না কেঁটে নীচে নামাতেই নিথর অসার দেহ দেখে আর্তনাদ শুরু করেন । ভোর হতেই তাদের আর্তনাদ প্রতিবেশিদের কানে গিযে পৌছায়। একে একে গ্রামবাসীদের উপস্থিতি ঘটতে থাকে ।

সকালে এ অপমৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন দায়িত্ব প্রাপ্ত জামজামি ফাঁড়ি পুলিশের আইসি এসআই হাকিম সঙ্গীয় ফোর্স। পুলিশের উপস্থিতিতে শ শ উৎসুক পুরুষের মাঝে এ মৃত্যু রহস্য নিয়ে নানামুখী রহস্যের জটাজল দেখা দেয়।

আরও পড়ুন:
যুবলীগের কর্মী হত্যা মামলার সাত আসামিকে আগাম ১০ দিনের জামিন
জোৎস্না উৎসব উৎযাপনে বাঁধা

এ রহস্যের জট উম্মোচনে ছুটে আসেন জেলা পুলিশের এ্যাডশনাল এসপি ( সদর সার্কেল) মোঃ কলিমুল্লাহ। পুলিশ কর্মকর্তা এ অপমৃত্যুর নৈপথ্য উম্মোচনে নেমে এটা প্রেম ঘটিত মৃত্যু বলে নিশ্চিত করেন।

নৈপথ্যের প্রেমিকের মোবাইল নং বইয়ের পাতায় লেখা পেয়ে ফোন দেয়া হলে প্রেমিক রানা তাদের প্রেমের বিস্তারিত ইতিবৃত্ত প্রকাশ করে। পাঁচলিয়া জামাল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রানা বর্তমানে আলমডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্র।

খালা বাড়ি মাঠ পাড়া পাঁচলিয়ার জাহাঙ্গীরের স্ত্রী খালা রানুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তার সাথে কল্পপনার পরিচয ও সখ্যতা শুরু হয়। এর মাঝে তাকে নিয়ে ঘর ছাড়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে স্বজনদের হাতে ধরা পড়ে যায়। রানাকে নিয়ে তার মা রানু গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়।

কল্পনার পরিবার গতরাতে কল্পনাকে অন্যত্র বিয়ে দেবে ঠিক করাতেই কল্পনা আগের রাতে এ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯ at ১৬:৫৮:২৯ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/টিআর/কেএ