রোজায় মণিরামপুরে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন

69

মণিরিমপুর (যশোর) প্রতিনিধি : প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও মণিরামপুরে পবিত্র মাহে রমজানকে উপলক্ষ্য করে বিভিন্ন খাদ্য পণ্য সামগ্রির মূল্য প্রাই দিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। রোজার শুরুতেই নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রির মূল্য অনেকটা বৃদ্ধিতে খেটে খাওয়া ও সাধারন ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অসহাত্বের মতো নিরুপায় হয়ে প্রয়োজনের তাগিদে ক্রেতারা বেশি দামে এগুলো কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাজারের কয়েকটি অসাধু পাইকরী ও খুচরা বিক্রেতারা অধিক মুনাফার প্রত্যাশায় এ সকল পণ্য সামগ্রী বেশি দামে বিক্রি করছেন। বাধ্য হয়ে অনেক খুচরা ব্যবসায়ীরাও আগের দামের চেয়ে বেশি দামে খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করছেন।

রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য যে খাদ্যসামগ্রি গুলো বেশি চাহিদাপূর্ণ যেমন- ছোলা, খিরাই, চিনি, খেজুর, গুড়, পাকা কলা, চিড়া, মুড়িসহ অন্যান্য প্রতিটি খাদ্যপণ্যের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানের শুরুতেই এগুলো কেজিপ্রতি ৫টাকা থেকে শুরু করে ২০/৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু পণ্যের দাম দ্বিগুনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাভাবিক ভাবেই এ অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার গুলতে গুড়, পাটালি ও কলার দোকানে কেনাকাটার উপচে পড়া ভিড় লক্ষনীয়।

বাজারঘুরে দেখা যায়- গুড় বা পাটালি কেজি প্রতি ৭০/৭৫ টাকা থেকে ৮০/১০০টাকা হয়েছে। কয়েকদিন আগেও সাগর কলার দাম ছিলো কেজিপ্রতি ২৫টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা, ৩৫ টাকার মর্তমান কলার এখন মূল্য ৬০/৬৫ টাকা। ১০০ টাকার খেজুর হয়েছে কমপক্ষে ১২০টাকা আবার ক্ষেত্রভেদে ৩০০টাকা। প্রতিপিচ ৩/৫টাকার কাগুজি লেবুর দাম বেড়েছে ৭/১০টাকা। প্রতি পিচ ডিমের দাম বেড়েছে ৫০পয়সা থেকে ১টাকা করে।

সপ্তাহখানিক আগে ও রমজানের প্রথমদিন পর্যন্ত দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৫টাকার শশা ও খিরাই বেড়ে হয়েছে ২৫/৩০টাকা, সয়াবিন তেল ৮২টাকা থেকে ৮৪টাকা, চিনি ৪৮ থেকে ৫৪টাকা, ছোলা ৬৫/৭০ থেকে ৭৫/৮০টাকা, বুট ৩২ থেকে ৩৬টাকা, চিড়া ৫০ থেকে ৫৪টাকা, পিয়াজ (ভারতীয়) ৮থেকে হয়েছে ১৮টাকা, পেয়াজ (দেশি) ২২থেকে ২৮টাকা, রসুন, ৪০থেকে ৬৫/৮০টাকা, শুকনা ঝাল ১৮০থেকে ২০০টাকা, কাচা ঝাল ৪০ থেকে হয়েছে ৬০টাকা, ২৫টাকার বেগুন হয়েছে ৫০টাকা, কাচা কলা ১৬ থেকে বেড়ে দ্বিগুন অর্থাৎ ৩২টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ থেকে ৩৫টাকা, কচুরলতি ২৫থেকে ৩৫, আলু ১০থেকে ১৫টাকা। ৭০০টাকার খাসির মাংস কেজি প্রতি একধাপে ১’শ টাকা বেড়ে হয়েছে ৮০০টাকা। গরুর মাংস ৪৫০থেকে ৫০০টাকা, পোল্টি মুরগি ১৬০থেকে বেড়ে হয়েছে ২১০টাকা।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জ চুনারুঘাট থানার ওসির মহৎ উদ্যোগ

এদিকে মাছের দাম দিগুন বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মাথায় হাত। কেজিপ্রতি রুই মাছ ২৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮০/৩০০টাকা, কাতলা ৩৫০থেকে ৪০০/৪৫০টাকা, মৃগেল ২২০থেকে ২৫০টাকা, তেলাপিয়া (নাইলোটিকা) ১০০থেকে ১৫০টাকা, চিংড়ি ৪০০ থেকে হয়েছে ৫০০টাকা, গ্লাসকাপ ১৬০থেকে ১৮০টাকা। মাছ ব্যাবসায়ী রাজকুমার জানান, বাজারে মাছ কম আসায় দাম বৃদ্ধি, যেমন কিন্তে হচ্ছে তেমন বিক্রি করছি৷

কলা ব্যবসায়ী মুনছুর আলী জানান, রমজান মাসে কলার চাহিদা অনেক বেশি আর বিশেষ করে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বেশি দামেই বিক্রি করছি।

এদিকে ক্রেতা মাষ্টার মতিয়ার, ডা: সিরাজুল, ইমরাম হোসেন, নিরঞ্জন, ব্যাবসায়ী লিটনসহ অন্যরা জানান, রমজানকে পুজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিবছর রমজান মাসকে সামনে রেখে খেটে খাওয়া ও সাধারন মানুষকে এভাবে ঠকিয়ে অধিক মুনাফা করছে।

এবিষয়ে পণ্যের দর স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি তারা হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভুগিরা।

মে ১৪, ২০১৯ at ১১:২৬:৩৪ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/বিএইচ/এসজে

Print Friendly, PDF & Email