মণিরামপুরে রসুন চাষে ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছেন কৃষকরা

176
rosun-monirampur

বিল্লাল হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের খালিয়া গ্রামের অধিকাংশ কৃষক পরিবার প্রায় পাঁচ যুগেরও বেশী সময় ধরে রসুন চাষ করে আসছেন।

অনেক পরিবার রসুন চাষের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছেন। ভূমিহীন চাষিরা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে রসুন চাষ করে থাকেন।

রসুন এক বীজপত্রী মসলা ও ভেষজ জাতীয় লিলিসিয়া গোত্রের উদ্ভিদ। যার বৈজ্ঞানিক নাম অ্যালিয়াম স্যাটিভাম। এর ইংরেজি নাম গার্লিক। রসুন মানবদেহের বাত ব্যাথা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা রোগের মহৌষধ হিসেবে রসুন ব্যবহারে জুড়ি নেই৷

এছাড়াও ভোজন বিলাসীদের কাছে রসুন একটি অতিপ্রিয় মসলা। প্রায় সব ধরনের খাবার তৈরিতে রসুনের ব্যবহার রয়েছে। বাজারে রসুনের আচার, তেল, জেলিসহ নানা ধরনের খাবার বিক্রি হয়ে থাকে।

সরেজমিনে উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের খালিয়া ও হানুয়ার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকরা বানিজ্যিক ভিত্তিতে রসুন চাষ করেছেন। কথা হয় রসুন ক্ষেতের পরিচর্যারত চাষীদের সাথে।

তারা জানান, বর্ষার পরপরই সাধারণত কার্ত্তিক মাসের শুরুতে রসুনের বীজ বপন করা হয়। দীর্ঘ পরিচর্যার পর ফাল্গুন মাসের শেষ থেকে রসুন আহরণ শুরু হয়। চাষীদের বাড়ির ছেলে, বুড়ো, ঝি-বৌ প্রায় সকলেই রসুন ক্ষেতের পরিচর্যা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আরও পড়ুন: তিন সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রসুন ক্ষেতে কর্মব্যস্ত চাষী মাস্টার আব্দুস সালাম,হাবিবুর রহমান, মোকাররম হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, আবু হানিফা, জুলফিকার আলী, আব্দুর রশিদ, মাসুদ, মফিজুরসহ অনেকেই জানান, পূর্ব পুরুষ হতে রসুন চাষ করে আসছেন তারা।

এবছর খালিয়া মাঠে প্রায় আড়াই শ’ বিঘা জমিতে রসুন চাষ করা হয়েছে৷ দেশী জাতের রসুন আগে থেকেই বীজ তৈরি করে সংরক্ষণ করে থাকেন এখানকার চাষীরা। একর প্রতি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মণ রসুন উৎপাদন করে থাকেন তারা। রসুন আহরনের মৌসুমে বাজারে দাম একটু কম থাকার পরও প্রতি কেজি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে স্থানীয় বিক্রি করেন তারা।

চাষী আব্দুস সালাম জানান, প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছেন তিনি। বিঘা প্রতি তার ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমি হতে তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকার বেশি রসুন বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী। অনেকে আবার বিঘা প্রতি ১৫-২০ হাজার টাকা হারে জমি লিজ নিয়ে রসুন চাষ করেছেন।

চাষীরা জানান, স্থানীয় রাজগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারীরা আসেন রসুন কিনতে। সেখান থেকে ট্রাক বোঝাই হয়ে এখানকার রসুন চলে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। খালিয়া মাঠে কথা হয় স্থানীয় এক কৃষি অফিসার সাথে। তিনি জানান, বহু বছর ধরে এখানকার চাষীরা ক্ষেত থেকেই বাছাই করে বীজ সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে রোপন করেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজগঞ্জের খালিয়া গ্রামে উৎপাদিত রসুন গুনে মানে উৎকৃষ্ট হওয়ায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদাও রয়েছে বেশ। তাছাড়াও এখানকার মাটি রসুন চাষের যথেষ্ট উপযোগী।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস আরো জানান, স্থানীয় কৃষি দপ্তর এ গ্রামে রসুন চাষে বিপ্লব ঘটাতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে উন্নতমানের রসুন বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে৷ এছাড়া চাষীদের সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিয়ে নানা ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

দেশদর্পণ/বিএইচ/এসজে

Print Friendly, PDF & Email