চাঁপাইনবাবগঞ্জে সনাতন ধর্মাম্বীলীদের মহাস্নান অনুষ্ঠিত

31
chapagonj

জেলা প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : উত্তরবঙ্গের হিন্দু ধর্মের তীর্থস্থান ক্ষ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ পৌর এলাকার তর্ত্তিপুরে মহাশ্মশান জাহ্নবীমনির আশ্রম চত্তরে মাকরী সপ্তমী মহাপূর্ণ স্মান উপলক্ষ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৩ দিন ব্যাপী মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চন্দ্র মাসের তারিখ হিসাবে প্রতি বছর রাজশাহী অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল গত্রের তর্ত্তিপুর নামক স্থানে পৌরণিক জাহ্নুবী মুনির আশ্রমের কাছে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে থাকেন।

তর্ত্তিপুর মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি শ্রী সাধন কুমার মনিগ্রাম ও সাধারণ সম্পাদক কমল কুমার ত্রিবেদী জানান, অন্যান্য বছরের থেকে এ বছর নদীতে পানি সংকট থাকলেও এ ধর্মের সকল মানুষ অত্যান্ত শৃঙ্খলার সহিত স্মান করছে।

এ গঙ্গাস্নান অধিকাংশ বছরই মাঘ মাসে অনুষ্ঠিত হয় বলে একে মাঘী বান্নী গঙ্গাস্নান বলা হয়ে থাকে। কিন্তু চাঁদের উপর নির্ভর করে কোন কোন বছর ফাগুন মাসেও গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: ধর্ষণের অভিযোগের সেই ২ পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার

রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা হতে বিভিন্ন প্রকার যানবহন যোগে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য আগেরদিন থেকেই পৌরণিক জাহ্নুবীমুনির আশ্রমে আসতে শুরু করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তীর্থযাত্রীদের আসা অব্যহত ছিল।

আগতরা স্থানীয়ভাবে গঙ্গাস্নান পর্ব শেষ করে বিভিন্ন ধরণের ভুরি ভোজ করে থাকে। প্রায় মহিলারাই বাড়ি ফেরার সময় নানা ধরণের মাটির পাত্রে সযত্নে গঙ্গার পবিত্র জল নিয়ে যায়।

অপরদিকে গণজমায়েতকে উদ্দেশ্য করে প্রতিবছরের ন্যায় ঘাট এলাকায় এবছরও গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আসবাবপত্রের মেলা।

আয়োজকরা জানিয়েছে- প্রতি বছরের মতই এবারো বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে ভক্তদের সংখ্যা।এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পূর্ণ্য লাভের আশায় হিন্দু ধর্মাম্মবলীরা জমায়েত হন।

গঙ্গাস্নান শেষে অধিকাংশ হিন্দু ধর্ম্বালবীরা শিবগঞ্জের আদি চমচম, ভোলাহাটের ঐতিহ্যবাহী দই, চিড়া, মুড়ি, কলা দিয়ে ভোজ খেয়ে থাকে।

এদিকে সাপাহার থেকে আসা এক বৃদ্ধের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পূর্ব পুরুষের রীতিনীতি মোতাবেক এখনো আমরা গঙ্গাস্নান শেষে মাটির পাত্রে গঙ্গার জল নিয়ে যায়।বছর ধরেই এই জল শারীরিক সুস্থতা ও পবিত্রতার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে।

দেশদর্পণ/জেএইচ/এসজে

Print Friendly, PDF & Email