শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে অচলাবস্থায় যবিপ্রবি

244

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর: শিক্ষককে হুমকির প্রতিবাদ অন্যদিকে নৌকা প্রতীক সরানোর অভিযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে অচলাবস্থায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদকে হুমকির প্রতিবাদে অর্নিদিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ। শনিবার দুপুরে শিক্ষাকদের মানববন্ধনে বাঁধা দেয়াসহ একজন শিক্ষককে হুমকির বিচারের দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিকে, ক্যাম্পাসে থাকা নির্বাচনী প্রতীক নৌকা সরানোর অভিযোগ তুলে শিক্ষকদের মানববন্ধন চলাকালে শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সাধারণ হুমাইয়ারা আজমীরা এরিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষর্থীরা অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদকে অপসারণের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে শিক্ষকরা ক্যাম্পাসের মানববন্ধন ছেড়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করতে উদ্যাত হলে শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে শিক্ষকদের মানববন্ধন বানচালের চেষ্টা করে।
এ সময় শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, সদ্য নির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদকে হুমকিদাতার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি। শিক্ষকরা ক্লাসে যাবে না।শিক্ষকরা জানান, গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল মোবাইল ফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদকে অকথ্য ভাষা গালিগালাজ করেন। এসময় তিনি দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন। হুমকি দেওয়ার পর তিনি ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা-নেত্রীকে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অশান্ত করে তুলেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ, কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কিন্তু মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সাথে চরম দূর্ব্যবহার করে পাল্টা মাইক নিয়ে মানববন্ধন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে দাবি শিক্ষকদের।
অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, শহর থেকে ওহি নাজিল করে, আমার বিরুদ্ধে আমার ছাত্রদের ব্যবহার করে স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে। ছাত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া ক্ষমতা আমার নেই। এজন্য ছাত্ররা আমার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আনোয়ার হোসেন বিপুল নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষা হুমকি দিয়েছেন। তিনি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এর একদিন পরেই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।
ইকবাল কবীর জাহিদ আরও বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে নি¤œমানের চেয়ার টেবিল সরবরাহ করা হয়েছে। বিলে আমি আপত্তি করেছি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে, অভিযোগের ব্যাপারে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, আমি কোন শিক্ষককে হুমকি দেয়নি। আর আমার কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেনি। ক্যাম্পাসে থাকা নৌকা প্রতীক সরানোসহ ছাত্রলীগ নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদ করেছি মাত্র। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে আমি আদালতে সরানাপন্ন হতে পারি।
এদিকে, দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, একজন ছাত্রলীগ নেত্রীর নেতৃত্বে আজ যা ঘটেছে সেটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতি বছর শিক্ষার্থী ভর্তির পরই বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত করা হয়। এবার করা হয়েছে। শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করা হবে, এটা হতে পারে না।
অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ক্যাম্পাসে গতবার নতুন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং করা হয়েছে। এবার আমরা আগে থেকে র‌্যাগিং বিরোধী সচেতনতা পোস্টার করেছি। সেগুলো ছিড়ে ফেলা হয়েছে। তারা অভিযোগ করছে, নৌকা ভেঙে ফেলা কিংবা পোড়ানো হয়েছে। তাদের এই অভিযোগ সঠিক নয়। তাছাড়া নৌকা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক। নির্বাচনের পর সেগুলো তো সরিয়ে নেওয়ার কথা।
তিনি আরও বলেন, আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকবো। আমি শিক্ষকদের সঙ্গে বসবো। তারা ক্লাসে ফিরে যাবে, এটা আমার বিশ্বাস।

Print Friendly, PDF & Email