রাস্তার বুক ছিঁড়ে চলছে পাওয়ার টিলার

155

আনোয়ার হোসেন, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর জেলায় অবৈধ ভাবে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। এদের বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে অকালে ঝরে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণ। কাউকে আবার সারা জীবনের মতো বরণ করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব।

এছাড়া এগুলোর বিকট শব্দের কারণে ঘটছে শব্দ দূষণও। ফলে পথচারীসহ জনসাধারণকে সার্বক্ষণিক আতংকের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। কিন্তু চোখের সামনে অবৈধ এই যানের অবাধ চলাচল যেন প্রশাসনের কাছে অদৃশ্য হয়ে আছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

একাধিক প্রয়োজনীয়তা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষিজমি চাষাবাদের জন্য কৃষকের কাছে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর খুবই জনপ্রিয়। আর দেশের কৃষি উন্নয়ন তথা চাষবাসের কাজে ব্যবহার করার জন্যই সরকার বিদেশ থেকে এ পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর আমদানি করার অনুমতি দেয়।

কিন্তু চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত এই পাওয়ার টিলারের সাথে মালামাল পরিবহনের জন্য আলাদা ট্রলার সংযোজনের মাধ্যমে বিটিআরসির কোনো প্রকার পারমিট ছাড়াই অবৈধ এসব যানবাহন অত্যন্ত দাপটের সাথেই লক্ষ্মীপুর জেলার প্রধান সড়কসহ সকল ব্যস্ত সড়কপথে অবৈধ কাঠ, লাকড়ি, বালু, পাথর, মাটি, ইট, সিমেন্ট, রডসহ ইত্যাদি মালামাল পরিবহন করছে।

আবাদি জমি ছেড়ে রাস্তার বুক ছিঁড়ে দাবড়ে বেড়াচ্ছে গ্রামাঞ্চল, শহর ও বাজার কেন্দ্রিক সড়কগুলোতে। ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় শিশু-কিশোররাও অদক্ষভাবে এসব ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। বেপরোয়া গতি ও কানফাটা আওয়াজে চলাচলকারী এসব পাওয়ার টিলারের কারণে শহরের পাশাপাশি গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ দেখা দিয়েছে। শব্দ ও বায়ুদুষণ এখন গ্রামেরও পৌঁছে দিয়েছে এসব ট্রক্টার-পাওয়ার টিলার।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুতের মিটার বাণিজ্যের অভিযোগ

এছাড়া এই এদের বিশাল আকৃতির চাকার কারণে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাকা রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, চুর্নবিচুর্ন হচ্ছে ইটের রাস্তা। গ্রামের মেঠো পথগুলোর মাটি আলগা হয়ে জমিতে মিশে যাচ্ছে। বিলীন হতে শুরু করেছে মেঠো পথগুলো। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাঘাট বিনষ্ট হচ্ছে। কিন্তু নেই এমন দৃশ্য দেখে প্রতিবাদ করার মতো দেশপ্রেমিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর থেকে রায়পুর, রামগতি, রামগঞ্জ, চন্দ্রগঞ্জ সড়কে চলছে এদের রাজত্ব বেড়েই যাচ্ছে। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলোতে ইটভাটার জন্য ব্যবহৃত এসব ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার চলাচলের কারনে রাস্তাগুলোকে দেখতে আবাদি জমির মতো দেখাচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, সরকারি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর আমদানিকারক অবাধে আমদানি করে বিক্রি করে ইটভাটার মালিক, মাটি ও বালু ব্যবসায়ী, কাঠ ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকসহ সাধারণ পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে।

ট্রক্টার-পাওয়ার টিলার এর ড্রাইভারের জন্য কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় সহজেই এসব পরিবহন কিনে আনে ব্যবসায়ীরা। তারা এসব ট্রক্টার-পাওয়ার টিলার কিনে কৃষি কাজের পরিবর্তে ব্যবহার করছে পরিবহন কাজে। ফলে গ্রামগঞ্জ এবং শহরে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হাইওয়ে পুলিশসহ থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এসব ট্রক্টার-পাওয়ার টিলার সড়কে চলাচল করার কারণে জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখেও তা বন্ধ হচ্ছে না। বেশ কিছু ট্রক্টার-পাওয়ার টিলার মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, সংশ্লিষ্টদের মাসোহারা দিয়েই এসব ট্রক্টার-পাওয়ার টিলার সড়ক-মহাসড়কে চালাচ্ছেন তারা।

সড়কগুলোতে এ ধরনের যানের কারণে এখন পা ফেলাই দায়। বিশাল চাকার এ যান রাস্তায় চলাচলের সময় কার উপর গিয়ে উঠে তা বলা মুশকিল। তাই ট্রক্টার-পাওয়ার টিলারের ভয়ে রাস্তা-ঘাটে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে চলাচল করছে মানুষ। সড়কে এই অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টার সড়ক-মহাসড়কে চলাচল কিংবা পণ্য সামগ্রী বহনের অনুমতি নেই। তারপরেও অবৈধভাবে এসব যান সড়কে চলাচল করছে। এদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কারার দাবি লক্ষ্মীপুর জেলাবাসি।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) -এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু করতে পারবো না, একাজ পুলিশের। আপনি যেহেতু বলেছেন পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমি বলার চেষ্টা করবো।’

দেশদর্পণ/এএইচ/এসজে

Print Friendly, PDF & Email