আ’লীগের নিরঙ্কুশ জয়, ইতিহাস সৃষ্টি শেখ হাসিনার!

49

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেখ হাসিনা নিশ্চিত ছিলেন তাঁর দলই জিতবে। কিন্তু এ ভাবে? না, সম্ভবত তিনিও ভাবেননি। এমনটা যে হবে কেউ ভাবেননি। বাস্তবে অভাবিত ফল দিল বাংলাদেশের ভোট। আওয়ামী লীগের বিপুল জয়। প্রায় মুছে গেল বিরোধীরা। শুধু দল নয়, রেকর্ড করেছেন মুজিব কন্যাও। গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে ২ ল্খা ৩২ হাজার ভোট পেয়ে রেকর্ড গড়েছেন হাসিনা। সেখানে বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী পেয়েছেন মাত্র ১২৩টি ভোট।

ইতিহাস সৃষ্টি করলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি। তারই নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশাল জয় পেল মহাজোট।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এবারও তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করল। প্রতিদ্বন্দ্বী জোট ও দলগুলোকে বহু পেছনে ফেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল মহাজোট।

প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ২৮৮টি আসনে (আওয়ামী লীগ ২৫৯, জাতীয় পার্টি ২০, ওয়ার্কাস পার্টি ৩, জাসদ ২, বিকল্পধারা ২, তরিকত ফেডারেশন ১, জেপি ১) বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। বিএনপি জোট অর্থাৎ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে মাত্র সাতটি (বিএনপি ৫, গণফোরাম ২) আসন।

স্বতন্ত্রসহ অন্যান্যরা জয় পেয়েছেন ৩টি আসনে। ঘোষিত হয়নি পার্বত্য রাঙ্গামাটি (২৯৯) অঞ্চলের ফলাফল। এছাড়া গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ি-সাদুল্যাপুর) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী মারা গেলে এ আসনের ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জানুয়ারি।

ফলাফল প্রসঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বাংলার জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থনে, এই স্বাধীন-সার্বভৌম নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর সব কৃতিত্বের দাবিদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি সরকারপ্রধান হয়েও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হয়, তার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।’

আরোও পড়ুন: ‘অভিনন্দন বাংলাদেশ!’ আনন্দবাজারে সম্পাদকীয়

শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইমাম আরও বলেন, ‘এখন কোনো আনন্দ মিছিল করার সময় নয়, এটি জাতি গড়ে তোলার উপযুক্ত সময়।’

যদিও নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।

রোববার রাতে বেইলি রোডের বাসায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ড. কামাল হোসেন এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, দেশের সব আসন থেকে একই রকম ভোট ডাকাতির খবর এসেছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দলের শতাধিক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচন কমিশনকে বলছি, এ নির্বাচন বাতিল করা হোক। আমরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, ‘এই নির্বাচন নিষ্ঠুর প্রহসন, ভবিষ্যতে জাতির জন্য বড় ক্ষতি হয়ে গেল’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শীর্ষ নেতারা ঢাকার বাইরে থেকে আসার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’ আজ (সোমবার) বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সে সভা থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানা যায়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে দুই লাখ ৩২ হাজার ভোট পেয়ে রেকর্ড গড়েন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সেখানে বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী পান মাত্র ১২৩টি ভোট।

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের মতো বাকি আসনগুলোতে নৌকার প্রার্থীরা তাদের নিরঙ্কুশ বিজয় ধরে রাখেন।

দেশদর্পণ/এসজে

Print Friendly, PDF & Email